HSC ICT: Chapter 2 – Communication Systems and Networking

HSC ICT: Chapter 2 – Communication Systems and Networking

কমিউনিকেশন সিস্টেমস (Communication Systems)

Communication বা যোগাযোগ শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন ‘Communicare’ থেকে, যার আদান-প্রদান। মূলত যে পদ্ধতিতে তথ্যকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে একটি নির্দিষ্ট মাধ্যমের সাহায্যে স্থানান্তর করা হয় তাকেই Communication System বা যোগাযোগ ব্যবস্থা বলে। এই তথ্য আদান-প্রদানের জন্য টেলিফোন, মোবাইল, কম্পিউটার, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল ইত্যাদি বিভিন্ন Electronic Device সমূহ ব্যবহার করা হয়। 

কমিউনিকেশন সিস্টেমে Signal একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে মূলত কোনো তথ্য Signal এর মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়ে থাকে। Signal দুই ধরনের – 

  1. Analog Signal : যে সংকেতের মান সময়ের সাপেক্ষে নিরবিচ্ছিন্নভাবে পরিবর্তন হয় এবং যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো মানে থাকতে পারে তাকে Analog Signal বলে। এই ধরণের সংকেত Sinewave তৈরি করে। 
  2. Digital Signal : যে সংকেতের মান সময়ের সাপেক্ষে ধাপে ধাপে পরিবর্তন হয় তাকে Digital Signal বলে। এই ধরণের সংকেত মূলত Square wave তৈরি করে। 

ডেটা কমিউনিকেশন কি? (Data Communication System)

Signal Processing বা সংকেত প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে কোনো ডেটা এক ডিভাইস হতে অন্য ডিভাইসে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকেই Data Communication System বলে। এক্ষেত্রে দুটি ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান করার জন্য পাঁচটি প্রধান উপাদান প্রয়োজন – 

  • Source : যে ডিভাইস হতে ডেটা পাঠানো হয় সেটি হলো Source বা উৎস। যেমন – কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি। 
  • Transmitter : Transmitter বা প্রেরক যন্ত্র মূলত উৎস হতে কোনো ডেটা নিয়ে তা কমিউনিকেশন মাধ্যমে পাঠায়। যেমন – মডেম। 
  • Transmission System : মূলত যে মাধ্যম দিয়ে ডেটা স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। একে Communication Medium ও বলা হয়। যেমন – অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি। 
  • Receiver : Transmission System এর মাধ্যমে ডেটা যেখানে পাঠানো হয় সেটি হলো Receiver বা গ্রাহক। এটি ডেটা গ্রহণ করে গন্তব্যস্থানে পাঠায়। যেমন – মডেম। 
  • Destination :  সর্বশেষ যে ডিভাইস প্রেরিত তথ্য গ্রহণ করে। যেমন – কম্পিউটার, সার্ভার ইত্যাদি।

Data Transmission Speed

Data Transmission Speed হলো ডেটা স্থানান্তরের হার। অর্থাৎ একক সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কিংবা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে যে পরিমাণ ডেটা পরিবাহিত হয় তাকেই Data Transmission Speed বা Bandwidth বলে। Bandwidth সাধারণত bps বা Bit per Second এ হিসেব করা হয়।

Data Transmission Speed কে তিনভাবে ভাগ করা হয় – 

Narrow Band : 

একে Sub-Voice Band ও বলা হয়ে থাকে। মূলত ধীর গতিতে ডেটা স্থানান্তরের জন্য এই ব্যান্ড উপযোগী। এক্ষেত্রে এই ব্যান্ডের গতিসীমা 45 bps থেকে 300 bps পর্যন্ত হয়ে থাকে। তারের ব্যবহার বেশি হওয়ার জন্য টেলিগ্রাফিতে এই ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়। 

Voice Band :

এই ব্যান্ডের গতি 9600 bps পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই ব্যান্ড বেশি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কম্পিউটার থেকে প্রিন্টার বা কার্ড রিডারে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এই ব্যান্ড ব্যবহৃত হয়।

Broad Band :

সবচেয়ে দ্রুত গতির ডেটা স্থানান্তরে এই ব্যান্ড ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে গতি শুরু হয় 1 Mbps থেকে। স্যাটেলাইট ও মাইক্রোওয়েভ কমিউনিকেশনে এই ধরণের ব্যান্ড ব্যবহৃত হয়। 

Data Transmission Method

ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে যে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ডেটা স্থানান্তর করা হয় তাকেই Data Transmission Method বলে। প্রেরক হতে প্রাপকে প্রতিবারে একসাথে কত বিট ডেটা প্রেরণ করা হবে তার উপর ভিত্তি করে ডেটা ট্রান্সমিশনের দুইটি পদ্ধতি রয়েছে –

  • Parallel Data Transmission
  • Serial Data Transmission

Parallel Data Transmission : 

প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে সমান্তরালে ডেটা স্থানান্তর করলে তাকে সমান্তরাল ডেটা ট্রান্সমিশন বলে। অর্থাৎ একাধিক তারের মাধ্যমে একই সাথে ডেটা বিট প্রেরণ করা হয়, যেখানে প্রতিটি তার একই সময়ে একটি করে বিট বহন করে। 

সুবিধা : 

  • অনেক ডেটা একসাথে প্রেরণ করা যায়।
  • ডেটা দ্রুত প্রেরণ করা যায়।

অসুবিধা :

  • ব্যয়বহুল পদ্ধতি, কারণ n বিট ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য n টি পৃথক লাইনের প্রয়োজন হয়। 

ব্যবহার :

প্যারালাল প্রিন্টার পোর্ট ও ক্যাবল ব্যবহার করে কম্পিউটারের সাথে প্রিন্টারের সংযোগ।

Serial Data Transmission : 

প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে একের পর এক ডেটা বিট প্রেরণ করা হলে তাকে অনুক্রম বা সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন বলে। এক্ষেত্রে একটি ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমেই আট বিট ডেটা পর্যায়ক্রমে পাঠানো হয়। 

সুবিধা : 

  • অধিক দূরত্বে ডেটা প্রেরণের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক।
  • ট্রান্সমিশন লাইন একটি হওয়ায় খরচ কম।

অসুবিধা :

  • ধীরগতি সম্পন্ন, কারণে একই সময়ে একটি করে বিট স্থানান্তরিত হয়।

ব্যবহার :

কম্পিউটারের সাথে মডেম কিংবা USB ব্যবহার করে যেকোনো ডিভাইসের সংযোগ। 

Bit Synchronization :

এক কম্পিউটার হতে অন্য কম্পিউটারে ডেটা পাঠানো হলে সেটি মূলত সিগন্যাল আকারে প্রেরিত হয়। আর ডেটা সিগন্যাল বিট আকারে এক কম্পিউটার হতে অন্য কম্পিউটারে যায়। তাই এক্ষেত্রে ডেটা ট্রান্সমিশনে বিটগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন। অর্থাৎ বিটগুলো এমনভাবে সাজানো প্রয়োজন যাতে প্রাপক কম্পিউটার বিটের শুরু ও শেষ বুঝতে পারে। বিটের এই সমন্বয়কেই Bit Synchronization বলে।

Bit Synchronization এর উপর ভিত্তি করে ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় – 

  • Asynchronous 
  • Synchronous
  • Isochronous

Asynchronous  Transmission :

যে ডেটা ট্রান্সমিশন মেথডে প্রেরক থেকে প্রাপকে ডেটা প্রেরণের ক্ষেত্রে ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার পাঠানো হয় তাকে Asynchronous Transmission বলে। 

সুবিধা :

  • যেকোনো সময় ডেটা আদান-প্রদান করা যায় এবং প্রাপক সে ডেটা গ্রহণ করতে পারে।
  • কোনো Primary Storage Device এর প্রয়োজন হয় না। 
  • ইনস্টলেশন ব্যয় অত্যন্ত কম।
  • রক্ষণাবেক্ষণ সহজ।

অসুবিধা :

  • ডেটা ট্রান্সমিশনে বেশি সময় লাগে।
  • দক্ষতা ও সিকিউরিটি কিছুটা কম।
  • ট্রান্সমিশন হার সমান থাকে না।

ব্যবহার :

কম্পিউটার থেকে প্রিন্টার, কী-বোর্ড হতে কম্পিউটার, পাঞ্চকার্ড রিডার হতে কম্পিউটার, কম্পিউটার হতে কার্ড পাঞ্চার ইত্যাদি ক্ষেত্রে এই ধরণের ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

Synchronous Transmission :

এই ধরণের ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে ডেটাকে একটি প্রাথমিক স্টোরেজ ডিভাইসে সংরক্ষণ করে তারপর তা ব্লক আকারে ট্রান্সমিট করা হয়। একটি ডেটার ব্লক ৮০ থেকে ১৩২ ক্যারেক্টার বিশিষ্ট হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি ব্লকের শুরুতে একটি হেডার ইনফরমেশন এবং শেষে একটি ট্রেইলার ইনফরমেশন পাঠানো হয়। 

সুবিধা :

  • ব্লক আকারে ট্রান্সমিট হওয়ার কারণে ট্রান্সমিশন স্পীড অনেক বেশি।
  • ডেটা ট্রান্সমিশনের দক্ষতা বেশি।
  • তুলনামূলক সময় অনেক কম লাগে।
  • বেশি পরিমাণে ডেটা ট্রান্সমিট করা যায়।
  • কোনো স্টার্ট ও স্টপ বিটের প্রয়োজন নেই।

অসুবিধা :

  • Primary Storage Device এর প্রয়োজন হয়।
  • খরচ অনেক বেশি।
  • রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন।

ব্যবহার :

কম্পিউটার থেকে কম্পিউটার, এক স্থান হতে দূরবর্তী কোনো স্থানে ডেটা প্রেরণ কিংবা অনেকগুলো ডিভাইসে একসাথে ডেটা ট্রান্সমিট করতে এই ধরণের ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড ব্যবহৃত হয়।

Isochronous Transmission :

এটি মূলত Synchronous ও Asynchronous ট্রান্সমিশনের সমন্বিত একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রেরক হতে প্রাপকে ব্লক আকারে কিন্তু অ্যাসিনক্রোনাস পদ্ধতিতে ডেটা স্থানান্তর হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ডেটা ট্রান্সমিশন ডিলে অর্থাৎ পর পর দুটি ব্লক ডেটা পাঠানোর মধ্যবর্তী সময় সর্বনিম্ন (প্রায় শূন্য) রাখা হয়। 

অসুবিধা :

  • সকল ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নয়।
  • গ্রাহক ডেটা ঠিকমতো পেয়েছে কীনা তা বোঝার উপায় নেই।
  • কোনো ভুল সংশোধনের ব্যবস্থা নেই। 

ব্যবহার :

মাল্টিমিডিয়া ডেটা পাঠানোর ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়। মূলত সুষম Bit rate পাওয়ার জন্য এই ধরণের ট্রান্সমিশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। 

ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতিসমূহ ও দক্ষতা (Data Transmission Mode & Skills)

ডেটা ট্রান্সমিশন মোড কি? (Data Transmission Mode)

এক ডিভাইস হতে অন্য ডিভাইসে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ডেটা প্রবাহের দিককে Data Transmission Mode বলে। ট্রান্সমিশন মোড মূলত তিন প্রকার – 

  • Unicast Mode 
  • Broadcast Mode
  • Multicast Mode

Unicast Mode :

এই ট্রান্সমিশন ব্যবস্থায় শুধুমাত্র একজন প্রেরক ও একজন প্রাপকের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান হয় তাকে Unicast Mode বলে। এই ধরণের ট্রান্সমিশন মোড আবার তিন প্রকার – 

  • Simplex : এই ধরণের ট্রান্সমিশনে কেবলমাত্র একদিকে ডেটা পাঠানো যায়। অর্থাৎ একজন প্রেরক ডেটা প্রেরক শুধু ডেটা প্রেরণ করতে পারে এবং একজন প্রাপক সে ডেটাটি কেবল গ্রহণই করতে পারে। যেমন – টেলিভিশন, রেডিও ইত্যাদি।
  • Half Duplex : এই ধরণের ট্রান্সমিশনে প্রেরক ও প্রাপক উভয়দিকেই ডেটা পাঠানো কিন্তু তা একই সময়ে ট্রান্সমিট করা যায় না। যেমন – ওয়াকিটকি ।
  • Full Duplex : এই ধরণের ডেটা ট্রান্সমিশনে প্রেরক ও প্রাপক উভয়দিক থেকেই একই সময়ে যুগপৎ ডেটা স্থানান্তর করা যায়। যেমন – মোবাইল, টেলিফোন ইত্যাদি। 

Broadcast Mode : 

এই ট্রান্সমিশন মোডে একটি ডিভাইস থেকে ডেটা প্রেরণ করলে ঐ নেটওয়ার্কের অন্তর্গত সকল ডিভাইসই সে ডেটা গ্রহণ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় টেলিভিশন সম্প্রচার কেন্দ্র থেকে কোনো অনুষ্ঠান প্রচার করা হলে তা সকলেই উপভোগ করতে পারে। 

Multicast Mode :

এই ধরণের ট্রান্সমিশনে একটি ডিভাইস থেকে ডেটা প্রেরণ করলে নেটওয়ার্কের অধীনস্থ সকল ডিভাইস সে ডেটাটি গ্রহণ করতে পারে না। কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের সকল সদস্য ডেটা গ্রহণ করতে পারে। 

ডেটা ট্রান্সমিশন দক্ষতা (Data Transmission Skills)

ডেটা ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে প্রকৃত ডেটার পরিমাণ ও মোট ডেটার পরিমাণের অনুপাতকে ডেটা ট্রান্সমিশন দক্ষতা বলে। একে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। 

অর্থাৎ, ডেটা ট্রান্সমিশন দক্ষতা =প্রকৃত ডেটামোট ডেটা×১০০=মোট ডেটাপ্রকৃত ডেটা​×১০০

এখানে, প্রকৃত ডেটা = যে পরিমাণ ডেটা বিট প্রেরণ করা হবে

মোট ডেটা = প্রকৃত ডেটা ও ওভারহেড ডেটা বিটের সমষ্টি 

Asynchronous Transmission : 

ধরি, ৫ কিলোবাইট ডেটা প্রেরণে ডেটা ট্রান্সমিশন দক্ষতা নির্ণয় করতে হবে।

অতএব, প্রকৃত ডেটা = ৫ কিলোবাইট =(৫××১০০০) বাইট=(৫০০০××৮) বিট=৪০০০০  বিট

এখন, এসিনক্রোনাস পদ্ধতিতে, প্রতি ৮ বিট ডেটা প্রেরণে ১টি স্টার্ট বিট ও ২টি স্টপ বিট যুক্ত করতে হয়।

অর্থাৎ, প্রতি ৮ বিট ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য ওভারহেড বিট প্রয়োজন = ৩ বিট

∴ ৪০০০০ বিট ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য মোট ওভারহেড বিট প্রয়োজন, ৪০০০০×৩৮=১৫০০০৪০০০০×৮৩​=১৫০০০ বিট

অতএব, মোট ডেটা = প্রকৃত ডেটা + ওভারহেড ডেটা = ৪০০০০ + ১৫০০০ = ৫৫০০০ বিট

সুতরাং, এসিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশন দক্ষতা =৪০০০০৫৫০০০×১০০=৫৫০০০৪০০০০​×১০০

Synchronous Transmission : 

ধরি, ৫ কিলোবাইট ডেটা প্রেরণে ডেটা ট্রান্সমিশন দক্ষতা নির্ণয় করতে হবে।

অতএব, প্রকৃত ডেটা = ৫ কিলোবাইট =(৫××১০০০) বাইট=(৫০০০\times ৮) বিট=৪০০০০  বিট

এখন, সিনক্রোনাস পদ্ধতিতে ধরা যাক, ব্লক সাইজ =৮০ বাইট=(৮০××৮) বিট=৬৪০ বিট

এবং প্রতি ব্লক ডেটা প্রেরণের জন্য ২ বাইট হেডার ও ২ বাইট ট্রেলার প্রয়োজন হয় 

অর্থাৎ, প্রতি ৬৪০ বিট ডেটা প্রেরণে ওভারহেড বিট প্রয়োজন = ৪ বাইট =(৪××৮) বিট=৩২ বিট

∴ ৪০০০০ বিট ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য মোট ওভারহেড বিট প্রয়োজন, =৪০০০০×৩২৬৪০=২০০০=৪০০০০×৬৪০৩২​=২০০০ বিট

অতএব, মোট ডেটা = প্রকৃত ডেটা + ওভারহেড ডেটা = ৪০০০০ + ২০০০ = ৪২০০০ বিট

সুতরাং, সিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশন দক্ষতা =৪০০০০৪২০০০×১০০=৪২০০০৪০০০০​×১০০

মোবাইল যোগাযোগ | Mobile Communication

মোবাইল যোগাযোগ কি? (What is Mobile Communication?)

মোবাইল কমিউনিকেশন বলতে দুটি চলনশীল ডিভাইস বা একটি চলনশীল এবং অন্য একটি স্থির ডিভাইসের মধ্যে তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বোঝায়। মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থায় মূলত সেলুলার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে Full Duplex Mode এ ডেটা আদান-প্রদান করা হয়। 

Cellular Network :

মোবাইল ফোন সার্ভিস প্রোভাইডার তার সার্ভিস এলাকাকে ছোট ছোট কিছু অংশে বিভক্ত করে। এ ছোট অংশগুলোকে বলে সেল(Cell)। এজন্যই মোবাইল ফোনকে সেল ফোনও বলা হয়। একটি এন্টেনা ও ছোট নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থাকে, যাকে Base Station বলে। প্রতিটি বেস স্টেশন একটি মোবাইল সুইচিং সেন্টার দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যেখানে কল সংযোগ, বিলিং সিস্টেম, কল ইনফরমেশন রেকর্ডিং প্রভৃতি কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত হয়। সেলুলার ফোনে মূলত Radio Frequency ব্যবহার করা হয়।

Cell Signal Encoding :

Cell Signal Encoding বলতে মূলত এনকোডিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন ট্রান্সমিটার থেকে প্রেরিত সিগন্যাল সমূহকে পৃথক করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সেল সিগন্যাল এনকোডিং করা হয় – 

  • FDMA (Frequency Division Multiple Access) : এক্ষেত্রে প্রতি সেলে ব্যবহৃত ট্রান্সমিটিং এবং রিসিভিং Frequency প্রতিবেশী প্রত্যেক সেলে ব্যবহৃত Frequency থেকে আলাদা হয়।
  • CDMA (Code Division Multiple Access) : এক্ষেত্রে প্রতি সেলে Frequency সমূহকে ব্যবহারকারীর মধ্যে কতগুলো একক কোডে ভাগ করা হয়। 

Mobile Unit

মোবাইল বা সেলুলার ফোনে প্রধান তিনটি অংশ থাকে – 

  • Control Unit
  • Transceiver
  • Antenna System

এছাড়াও অন্য উপাদানগুলোর মধ্যে থাকে – 

  • প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহের জন্য একটি ব্যাটারি।
  • ইনপুট মেকানিজম হিসেবে Key Pad বা Touch Screen।
  • GSM মোবাইল ফোনের জন্য একটি SIM (Subscriber Identity Module) কার্ড এবং CDMA ডিভাইসের জন্য R-UIM (Removable User Identity Module) কার্ড।
  • কিছু স্যাটেলাইট ফোন ডিভাইস IMEI (International Mobile Equipment Identity) নম্বর দ্বারা অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত করা থাকে।  

Cellular Phone Technology

প্রচলিত মোবাইল ফোন প্রযুক্তিকে প্রধানত দুইটি ভাগে ভাগ করা যায় –

  • GSM (Global System for Mobile Communication)
  • CDMA (Code Division Multiple Access)

GSM (Global System for Mobile Communication)

GSM হচ্ছে মূলত FDMA ও TDMA এর একটি সম্মিলিত চ্যানেল অ্যাকসেস পদ্ধতি। GSM প্রযুক্তির তৃতীয় প্রজন্মের ভার্সনকে UMTS (Universal Mobile Telecommunication System) বলে।

সুবিধা :

  • আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা, কারণ GSM প্রযুক্তি পৃথিবীর প্রায় ২১৮টি দেশে ব্যবহৃত হয়। 
  • যেকোনো SIM কার্ড সহজেই ব্যবহার।
  • অধিক দক্ষ ও কার্যকরী ফ্রিকোয়েন্সি।
  • উচ্চ গুণগত মান সম্পন্ন নিরবিচ্ছিন্ন ট্রান্সমিশন।
  • Frequency-hopping সুবিধা, অর্থাৎ কম ফ্রিকোয়েন্সিতে সমস্যা হলে ফ্রিকোয়েন্সি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যায়।
  • GPRS (General Packet Radio Service) এবং EDGE (Enhanced Data Rate for GSM Evolution)  সুবিধা প্রদান।
  • উচ্চমানের ডেটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
  • সহজেই মোবাইলে সেট পরিবর্তন করার সুবিধা।

অসুবিধা :

  • কভারেজ এরিয়া ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
  • ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন অত্যধিক।
  • বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি, যা গড়ে প্রায় ২ ওয়াট।
  • পালস ট্রান্সমিশন টেকনোলজি ব্যবহারের ফলে হাসপাতাল, বিমান প্রভৃতি স্থানে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা। 

CDMA (Code Division Multiple Access)

মাল্টিপল একসেস বলতে একসাথে একাধিক ব্যবহারকারী অ্যাকসেস করতে পারে এরকম বোঝায়। এটি একাধিক ব্যবহারকারীকে একই ফ্রিকুয়েন্সি ব্যান্ড শেয়ার করার সুযোগ দিয়ে থাকে, তাই একে Multiple Access পদ্ধতি বলা হয়। CDMA যে পদ্ধতিতে ডেটা আদান-প্রদান করে থাকে তাকে Spread Spectrum বলে। এই পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীকে একটি কোড দেওয়া হয় যা কেবলমাত্র রিসিভার প্রান্তেই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। 

সুবিধা :

  • ট্রান্সমিশন পাওয়ার কম হওয়ায় রেডিয়েশন কম থাকে।
  • অপেক্ষাকৃত ভালো মানের কল পাওয়া যায়।
  • ব্যান্ডউইডথে CDMA প্রযুক্তি GSM হতে ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি ধারণক্ষম।
  • কভারেজ এরিয়া ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
  • ব্যাটারির আয়ুষ্কাল বেশি।
  • ডেটা ট্রান্সফার রেট প্রায় ১৫৪-৬১৪ kbps পাওয়া যায়।

অসুবিধা :

  • আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা নেই।
  • যেকোনো মোবাইল সেট ব্যবহারের সুবিধা নেই।
  • ব্যবহারকারী বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে ট্রান্সমিশনের গুণগত মান হ্রাস পায়।
  • এই প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা ও ব্যবহার তুলনামূলক কম। 

CDMA প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ট্রান্সমিশন পাওয়ার কম থাকায় কথা বলার সময় রেডিয়েশন কম হয়। এছাড়া সিস্টেমে কম পাওয়ার দরকার হওয়ায় ব্যাটারির আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে কথা বলা যায়, যা মূলত পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই প্রযুক্তির ফোন সমূহকে Green Phone বলা হয়।

মোবাইল ফোনের বিভিন্ন প্রজন্ম | Generations of Mobile Phones

প্রথম মোবাইল ফোনের প্রজন্ম (First Mobile Phone Generation):

১৯৭৯ সালে এশিয়ার সবচেয়ে বড় টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি জাপানের NTTC (Nippon Telegraph Telephone Corporation) বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মোবাইল ফোন উৎপাদন শুরু করে। ১৯৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম Motorola Dyna TAC নামে মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু হয়। প্রথম প্রজন্মের প্রযুক্তি ১৯৭৯ সালে শুরু হয়ে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল।

বৈশিষ্ট্য :

  • রেডিও সিগন্যাল হিসেবে এনালগ সিগন্যালের ব্যবহার।
  • অপেক্ষাকৃত কম ব্যান্ডের সিগন্যাল ফ্রিকোয়েন্সির ব্যবহার।
  • FDMA (Frequency Division Multiple Access) পদ্ধতির ব্যবহার।
  • সেমিকন্ডাক্টর ও মাইক্রোপ্রসেসর প্রযুক্তির ব্যবহার।
  • আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা না থাকা।
  • কথা বলার সময় অবস্থান পরিবর্তন হলে ট্রান্সমিশন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 
  • Handset Interoperability না থাকা অর্থাৎ হ্যান্ডসেটে যেকোনো মোবাইল অপারেটর কোম্পানির নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা না থাকা।
  • অন্য মোবাইল ট্রান্সমিটার দ্বারা সৃষ্ট রেডিও ইন্টারফারেন্স নেই।
  • সাধারণ টেলিফোনের তুলনায় এই প্রজন্মের মোবাইল ফোনের আকার ছোট ও ওজনে হালকা। 

দ্বিতীয় মোবাইল ফোনের প্রজন্ম (Second Mobile Phone Generation):

এনালগ এর পরিবর্তে ডিজিটাল ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে দ্বিতীয় প্রজন্মের ফোন চালু হয়। মূলত ভয়েসকে Noise মুক্ত করার মাধ্যমে এ প্রজন্মের মোবাইল ফোনের আবির্ভাব ঘটে। এ প্রজন্মের মেয়াদ ১৯৯১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত।

বৈশিষ্ট্য :

  • রেডিও সিগন্যাল হিসেবে ডিজিটাল সিস্টেমের ব্যবহার।
  • GSM (Global System for Mobile Communication) ও CDMA (Code Division Multiple Access) প্রযুক্তির ব্যবহার।
  • সীমিত আকারে আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা।
  • GSM পদ্ধতিতে ডেটা ও ভয়েস প্রেরণ করা সম্ভব হয়। 
  • GSM স্ট্যান্ডার্ডে Handset Interoperability বা সিম কার্ড ব্যবহারের সুবিধা। CDMA স্ট্যান্ডার্ডে এই সুবিধা নেই।
  • মোবাইল ডেটা স্থানান্তরের জন্য প্যাকেট সুইচ নেটওয়ার্ক এবং ভয়েস কল স্থানান্তরের জন্য কোর সুইচ নেটওয়ার্ক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। 
  • এ প্রজন্ম থেকেই প্রিপেইড সিস্টেম চালু হয়।
  • SMS, MMS এবং ভয়েস মেইল ব্যবহারের সুবিধা।
  • মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন।
  • কথা বলার সময় অবস্থান পরিবর্তন হলে ট্রান্সমিশন অবিচ্ছিন্ন থাকে। 
  • সমসাময়িক অন্যান্য সকল ফোনের চেয়ে আকারে ছোট এবং ওজনে হালকা।

                                                 Mobile Phone Generations

তৃতীয় মোবাইল ফোনের প্রজন্ম (Third Mobile Phone Generation) :

২০০১ সালে জাপানের NTTC DoCoMo কোম্পানি পরীক্ষামূলকভাবে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন চালু করে। তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোনের প্রযুক্তিগত পার্থক্য হলো, সার্কিট সুইচিং ডেটা ট্রান্সমিশনের পরিবর্তে প্যাকেট সুইচিং ডেটা ট্রান্সমিশন।

বৈশিষ্ট্য :

  • ডেটা রূপান্তরের কাজে Packet Switching ও Circuit Switching উভয় পদ্ধতিই ব্যবহৃত হয়।
  • উচ্চগতি সম্পন্ন ডেটা স্থানান্তর। ব্যান্ডউইডথ ২ mbps এর অধিক।
  • চ্যানেল একসেস TD-SCDMA, TD-CDMA পদ্ধতির।
  • ব্যাপক আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা।
  • ভিডিও কলের ব্যবহার শুরু।
  • নেটওয়ার্কে GPRS ও EDGE পদ্ধতির ব্যবহার।
  • মডেম সংযোজনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনেই ইন্টারনেট ব্যবহার।
  • FOMA (Freedom of Multiple Access) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স,ই-মেইল সহ অন্যান্য ইন্টারনেট ভিত্তিক সুবিধা প্রদান।
  • উচ্চ স্পেকট্রাম কর্মদক্ষতা। 
  • মোবাইল ফোনেই ইন্টারনেট ব্রাউজিং, টিভি দেখা, গান শোনা প্রভৃতি করা যায়।  

চতুর্থ মোবাইল ফোনের প্রজন্ম (Fourth Mobile Phone Generation):

চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল ফোনের ব্যবহার শুরু হয় ২০০৯ সালে। এ প্রজন্মের মোবাইল ফোনের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এতে সার্কিট সুইচিং বা প্যাকেট সুইচিং এর পরিবর্তে ইন্টারনেট প্রটোকল ভিত্তিক নেটওয়ার্কের ব্যবহার করা হয়। যার ফলে এই প্রজন্মের মোবাইল ফোন সমূহে আলট্রা-ব্রডব্যান্ড গতির ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যায়।

বৈশিষ্ট্য :

  • IP (Internet Protocol) নেটওয়ার্কের ব্যবহার।
  • ডেটা ট্রান্সফার রেট প্রায় ১ Gbps।
  • হাই ডেফিনিশন মোবাইল টিভি, ভিডিও কনফারেন্সিং, থ্রিডি টেলিভিশন এবং গেমিং ইত্যাদির ব্যবহার শুরু।
  • Bluetooth, WLAN, GPS (Global Positioning System), WCDMA, GPRS (General Packet Radio Service) প্রভৃতি ওয়্যারলেস সিস্টেম সাপোর্টের জন্য নেটওয়ার্কে SDR (Software Defined Radio) প্রযুক্তির ব্যবহার।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক | Computer Network

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি? (What is computer network)

বিভিন্ন কম্পিউটার কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্বারা একসাথে যুক্ত থাকলে তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক (Computer network) বলে। মূলত ডেটা আদান-প্রদানের লক্ষ্যে দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়। তাহলে বলা যায়, যেকোনো দূরত্বে স্থাপিত একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান এবং প্রসেসিং এর জন্য ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বিত ব্যবস্থাই হলো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। 

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি তথা বিভিন্ন রিসোর্সের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য তিনটি রিসোর্স হলো – 

  • হার্ডওয়্যার রিসোর্স শেয়ার : একটি কম্পিউটারের কোনো হার্ডওয়্যার উপাদান একই নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত অন্য কম্পিউটার সমূহে ব্যবহৃত হতে পারে, এটিই হলো হার্ডওয়্যার রিসোর্স শেয়ার। যেমন কোনো নেটওয়ার্কের অধিনস্থ কতগুলো কম্পিউটারে একটি মাত্র প্রিন্টার ব্যবহার করেই প্রিন্ট করার কাজটি করা যায়।
  • সফটওয়্যার রিসোর্স শেয়ার : প্রত্যেক কম্পিউটারের জন্য আলাদা আলাদাভাবে সফটওয়্যার না কিনে, একটি কপি কিনেই তা নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত সকল কম্পিউটারে শেয়ার করা যায়।
  • ইনফরমেশন রিসোর্স শেয়ার : কম্পিউটার নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে ঐ নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত অন্য কম্পিউটারের কোনো ফাইল বা ইনফরমেশন অ্যাকসেস করা যায়। অর্থাৎ একটি স্থানে তথ্য সঞ্চয় করে ঐ স্থান থেকে তথ্য শেয়ার করা যায়। যেমন ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে মূল সার্ভারে রক্ষিত ডেটাবেজ থেকে ফাইল ঐ নেটওয়ার্কের অধিনস্থ বিভিন্ন কম্পিউটারে শেয়ার করা যায়। 

নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ (Types of network)

মালিকানা অনুসারে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে দুই ভাগে ভাগ করা যায় –

  • Private Network : প্রাইভেট নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কেউ এই ধরনের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে পারে না। এই ধরনের নেটওয়ার্কে ট্রাফিক নেই বললেই চলে।
  • Public Network: পাবলিক নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত নয় এবং যেকোনো সময় যেকোনো কম্পিউটার এই ধরনের নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে পারে।

নিয়ন্ত্রণ কাঠামো অনুসারে নেটওয়ার্ক ৩ প্রকার। যথা-

Peer-to-Peer Network :

প্রত্যেক ইউজার তাদের রিসোর্স অন্যের সাথে শেয়ার করতে পারে এবং প্রতিটি কম্পিউটার একই সাথে সার্ভার ও ওয়ার্কস্টেশনে ভূমিকা পালন করে।

বৈশিষ্ট্য :

  • ইউজাররা তাদের কম্পিউটারের বিভিন্ন রিসোর্স শেয়ার করতে পারে।
  • ১০ জন বা তার কম ইউজারের জন্য সুবিধাজনক।
  • ডেডিকেটেড অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের প্রয়োজন হয় না।
  • বিশেষ কোনো সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেমের প্রয়োজন নেই।
  • পুরো নেটওয়ার্কের ইউজার ও সিকিউরিটি কেন্দ্রীয়ভাবে ম্যানেজ করা সম্ভব নয়।

সুবিধা : 

  • নেটওয়ার্ক সেটআপ করা সহজ।
  • ব্যবহারকারী নিজেই যেকোনো রিসোর্স শেয়ার করতে পারে।
  • নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর না থাকায় খরচ কম।

অসুবিধা :

  • কেন্দ্রীয়ভাবে ডেটা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই।
  • নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব দুর্বল।
  • একাধিক নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ দেওয়া অসুবিধা।

Client Server Network :

কেন্দ্রীয়ভাবে ডেটা স্টোর, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন এবং নেটওয়ার্ক চালানোর একটি উপযুক্ত সিস্টেম হলো ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক।

বৈশিষ্ট্য :

  • সহজে সম্প্রসারণযোগ্য এবং দশ থেকে হাজার ব্যবহারকারীর জন্যও নেটওয়ার্কটি সুবিধাজনক।
  • নেটওয়ার্ক সার্ভার থাকে।
  • ইউজার লেভেল এক্সেস কন্ট্রোল ব্যবহার করে বলে ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক বেশ সিকিউর।
  • নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর দিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • ইউজারদের নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট এর প্রয়োজন হয় না।

সার্ভারের সংখ্যা এবং স্টোরেজ মিডিয়ার উপর নির্ভর করে ক্লায়েন্ট সার্ভারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় – 

  • Centralized Network : সার্ভার ও টার্মিনালের সমন্বয়ে গঠিত একটি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা যেখানে সার্ভার নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে এবং টার্মিনালের মাধ্যমে ইউজার যুক্ত হয়ে সার্ভিস পেয়ে থাকে। টার্মিনাল দুই ধরনের। ডাম্ব টার্মিনাল ও ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনাল। ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনালের মেমোরি ও প্রসেসিং ক্ষমতা থাকলেও ডাম্ব টার্মিনালের তা নেই।
  • Distributed Network : ওয়ার্কস্টেশন, শেয়ারড স্টোরেজ ডিভাইস এবং প্রয়োজনীয় ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস নিয়ে গঠিত এক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। ওয়ার্কস্টেশন নিজস্ব মেমোরি, স্টোরেজ ও সফটওয়্যার ডেটা প্রসেসিং ক্ষমতা ব্যবহার করে কাজ করে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে Global Storage Media থাকে যার মধ্যে গ্লোবাল ইনফরমেশন ও সফটওয়্যার সংরক্ষিত থাকে। 
  • Hybrid Network : ক্লায়েন্ট সার্ভার এবং পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গঠিত। ক্লায়েন্ট সার্ভার অংশের প্রাধান্যই এক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

বৈশিষ্ট্য :

  • কেন্দ্রিয়ভাবে ক্লায়েন্ট-সার্ভার অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে সাজিয়ে রাখা যায় ও ম্যানেজ করা যায়।
  • ইউজাররা নিজ নিজ কম্পিউটারের রিসোর্স শেয়ার করতে সক্ষম।
  • দুই ধরণের নেটওয়ার্ক থাকায় ইউজারদের প্রবেশ কিছুটা কঠিন।
  • ওয়ার্কস্টেশনে সংরক্ষিত ফাইল সমূহ ব্যাকআপ করতে অসুবিধা হয়।

ভৌগলিক বিস্তৃতি অনুসারে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে চার ভাগে ভাগ করা যায় –

Personal Area Network (PAN) :

PAN মূলত গড়ে তোলা হয় কোন ব্যক্তির নিকটবর্তী ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য। এ ধরনের নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি সাধারণত ১০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। PAN এ ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডিভাইস হচ্ছে ল্যাপটপ, পিডিএ, বহনযোগ্য প্রিন্টার, মোবাইল ফোন ইত্যাদি।

বৈশিষ্ট্য : 

  • বাড়ি, অফিস, গাড়ি বা যেকোনো স্থানে সহজেই এই ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি করা যায়।
  • খরচ তুলনামূলক কম।
  • তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। 
  • ডিভাইসগুলোর সংযোগ তারযুক্ত বা তারবিহীন হতে পারে।
  • তারবিহীন মাউস, কীবোর্ড এবং ব্লুটুথ সিস্টেম ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়।

Local Area Network (LAN) :

কোনো বড় বিল্ডিং, পাশাপাশি দুটি ভবন, বড় কোনো গবেষণাগার অথবা কোনো স্কুল-কলেজের ক্যাম্পাস এরিয়ার মধ্যে অবস্থিত কম্পিউটার সমূহের মধ্যে যে নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয় তাকে LAN বলে। 

বৈশিষ্ট্য : 

  • নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি সাধারণত ১০ km বা তার কম হয়ে থাকে।
  • ডেটা প্রবাহের গতি ১০ Mbps থেকে ১০০ Mbps পর্যন্ত হতে পারে।
  • ট্রান্সমিশন মিডিয়া হিসেবে সাধারণত Coaxial Cable, UTP বা Optical Fiber Cable ব্যবহৃত হয়। 
  • তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল।
  • রিপিটার, হাব প্রভৃতি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস সমূহ ব্যবহৃত হয়। 

Metropolitan Area Network (MAN) :

কোনো শহরে অবস্থিত একাধিক LAN এর সমন্বয়ে MAN গঠিত হয়। সাধারণত একটি শহরের কোনো ব্যাংক বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখা অফিসের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এই ধরনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কোনো শহরের ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক MAN এর উদাহরণ। 

বৈশিষ্ট্য :

  • নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ১০০ কিমি এর মধ্যে থাকে।
  • ডেটা প্রবাহের গতি ১০ Mbps থেকে ১০ Gbps পর্যন্ত।
  • ব্যয় LAN অপেক্ষা বেশি।
  • ট্রান্সমিশন মাধ্যম হিসেবে টেলিফোন লাইন, মডেম বা মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করা হয়। 

Wide Area Network (WAN) :

বিভিন্ন ভৌগোলিক দূরত্বে অবস্থিত একাধিক LAN বা MAN এর সমন্বয়ে যে নেটওয়ার্ক গড়ে উঠে তাকে WAN বলে। অর্থাৎ WAN হলো এক দেশ হতে অন্য দেশ বা এক মহাদেশ হতে অন্য মহাদেশের মধ্যে স্থাপিত কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা। WAN এর একটি অন্যতম উদাহরণ হলো ইন্টারনেট। 

বৈশিষ্ট্য : 

  • এই ধরনের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে গড়ে উঠে। 
  • ট্রান্সমিশন মিডিয়া হিসেবে টেলিফোন লাইন, ফাইবার অপটিক ক্যাবল, স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
  • বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং ডিভাইস যেমন রাউটার, মডেম প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়।

নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট ডিভাইস (Network related devices)

বিভিন্ন নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট ডিভাইস :

মডেম (Modem) 

মডেম শব্দটি  Modulator ও  Demodulator এর সংক্ষিপ্তরূপ। Modulator এর  কাজ হচ্ছে ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগ সিগন্যালে রূপান্তর করা এবং Demodulator এর কাজ হচ্ছে অ্যানালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে রূপান্তর করা। টেলিফোন লাইন কিংবা ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সংযোগের জন্য Modem একটি অপরিহার্য ডিভাইস। মূলত টেলিফোন লাইনের মধ্য দিয়ে Analog Signal আদান-প্রদান হয়। কিন্তু কম্পিউটার বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসসমূহে Digital Signal ব্যবহৃত হয়। তাই ডেটা কমিউনিকেশনের জন্য প্রেরক প্রান্তে মডেম Analog Signal কে Digital Signal এ পরিণত করে, একে Modulation বলে। এরপর এই Analog Signal গ্রাহক প্রান্তে পৌঁছানোর পর মডেমের সাহায্যে তাকে আবার Digital Signal এ পরিণত করা হয়, একে Demodulation বলে। 

Network Interface Card (NIC) :

নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলো কেবল দিয়ে যুক্ত হলেও এই কেবলগুলো কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করতে হলে একটি বিশেষ ধরনের ইলেকট্রনিক সার্কিট ব্যবহার করতে হয়। এই ইলেকট্রনিক সার্কিটকে বলা হয় নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC)। এ কার্ডকে LAN Card বা Network Adapter ও বলা হয়। অধিকাংশ NIC কম্পিউটারের মাদারবোর্ডের সাথে বিল্ট-ইন অবস্থায়  থাকে। NIC তে ৪৮ বিটের একটি অদ্বিতীয় কোড থাকে। এই অদ্বিতীয় কোডকে MAC (Media Access Control) অ্যাড্রেস বলে। NIC মূলত মডেমের কাজ করে থাকে। একে তাই ইন্টারনাল মডেমও বলা যেতে পারে। 

হাব (Hub) :

কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের আওতাধীন ডিভাইস সমূহকে একত্রে সংযুক্ত করার কাজে Hub ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে স্টার টপোলজির ক্ষেত্রে হাব হচ্ছে কেন্দ্রীয় কানেকটিভ ডিভাইস। মূলত Hub কোনো প্রেরক হতে ডেটা গ্রহণ করলে নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত সকল ডিভাইসেই সে ডেটাটি প্রেরণ করে। অর্থাৎ সিগন্যাল Broadcast করে থাকে। কার্যকারিতার ভিত্তিতে Hub কে দুইভাগে ভাগ করা হয় – 

  • সক্রিয় Hub : সক্রিয় Hub তার কাছে আসা সংকেতকে বিবর্ধিত করে মূল সিগন্যাল থেকে নয়েজ বা অপ্রয়োজনীয় সংকেত বাদ দিয়ে তারপর তা প্রেরণ করে। এজন্য এই ধরনের Hub কে Intelligent Hub বলা হয়।
  • নিষ্ক্রিয় Hub : নিষ্ক্রিয় Hub ডেটা সিগন্যালকে কোনোরূপ পরিবর্তন না করেই গ্রাহক কম্পিউটারে প্রেরণ করে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে কোনো সিগন্যাল প্রসেসিং বা সংকেতের মান বিবর্ধিত করার সুযোগ থাকে না। 

সুবিধা :

  • একাধিক ডিভাইসকে যুক্ত করতে পারে।
  • বিভিন্ন ধরনের মাধ্যমকে যুক্ত করতে পারে।
  • দামে সস্তা।

অসুবিধা :

  • সংকেত শুধু টার্গেট পোর্টে না গিয়ে সকল পোর্টে যায়।
  • নেটওয়ার্কে ট্রাফিক বৃদ্ধি পায়।
  • ডেটা আদান-প্রদানে সংঘর্ষ বা কলিশনের সম্ভাবনা থাকে।
  • ডেটা ফিল্টারিং করা সম্ভব হয় না।

সুইচ (Switch) :

Switch ও hub এর মতো নেটওয়ার্কের আওতাধীন ডিভাইস সমূহকে একত্রে সংযুক্ত করার কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এক্ষেত্রে পার্থক্য হলো Hub যেখানে সিগন্যাল ব্রডকাস্ট করে থাকে, Switch সেখানে প্রাপ্ত সিগন্যাল কেবলমাত্র নির্দিষ্ট টার্গেট কম্পিউটারেই প্রেরণ করে। এজন্য Switch কে Intelligent Device বলা হয়। এছাড়া সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য সুইচ সংকেত আদান প্রদানের এলাকাকে পৃথক পৃথক সেগমেন্টে ভাগ করে।

সুবিধা :

  • শুধুমাত্র টার্গেট পোর্টে সংকেত পাঠায়।
  • ডেটা সংঘর্ষ বা কলিশনের সম্ভাবনা কম থাকে।
  • ভার্চুয়াল ল্যান ব্যবহার করে ব্রডকাস্ট নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • একই সাথে বিভিন্ন স্পীড লেভেল সাপোর্ট করে।

অসুবিধা :

  • একাধিক নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করতে পারে না।
  • হাবের তুলনায় দাম বেশি।
  • কনফিগারেশন অপেক্ষাকৃত জটিল।
  • ডেটা ফিল্টারিং সম্ভব নয়।

রাউটার (Router) :

রাউটার দুটি ভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। একই ধরনের একাধিক  ভিন্ন ভিন্ন LAN সংযুক্ত করে বড় একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে রাউটার ব্যবহৃত হয়। রাউটার একটি বুদ্ধিমান ডিভাইস হিসেবে একটা ডেটা কোন পথে পাঠালে সবচেয়ে সুবিধাজনক সেটি নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অর্থাৎ ডেটা স্থানান্তরের জন্য সহজ ও কম দূরত্বের পথটি বেছে নেয়। রাউটার নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে এক ধরনের এড্রেস ব্যবহার করে যেটাকে Network Address Translation (NAT) বলে।

সুবিধা :

  • একাধিক নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারে।
  • ডেটা সংঘর্ষ বা কলিশনের সম্ভাবনা কমায়।
  • ডেটা ফিল্টারিং করা সম্ভব হয়।
  • শুধুমাত্র আইপি এড্রেস (IP) সংকেত পাঠায়।
  • ভিন্ন ভিন্ন গঠনের নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করতে পারে যেমন: ইথারনেট, রিং, টোকেন ইত্যাদি।

অসুবিধা :

  • দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।
  • কনফিগারেশন পদ্ধতি কিছুটা জটিল।
  • ভিন্ন ভিন্ন প্রটোকলবিশিষ্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারে না।
  • অপেক্ষাকৃত ধীরগতি সম্পন্ন। 

গেটওয়ে (Gateway) :

ভিন্ন ভিন্ন প্রটোকলবিশিষ্ট নেটওয়ার্ক রাউটার দিয়ে সংযুক্ত করা যায় না। এক্ষেত্রে ভিন্ন প্রটোকল বিশিষ্ট দুই বা ততোধিক নেটওয়ার্ককে যুক্ত করতে Gateway ব্যবহার করা হয়। গেটওয়ে PAT (Protocol Address Translation) ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে থাকে।

সুবিধা :

  • হাব, সুইচ এবং রাউটার ইত্যাদি ডিভাইসসমূহ প্রোটোকল ট্রান্সলেশনের সুবিধা না দিলেও Gateway এই সুবিধা দেয়।
  • ভিন্ন প্রটোকলবিশিষ্ট একাধিক নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারে।
  • ডেটা সংঘর্ষ বা কলিশনের সম্ভাবনা কমায়।

অসুবিধা :

  • দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
  • কনফিগারেশন পদ্ধতি জটিল।

ব্রিজ (Bridge) :

Bridge মূলত একাধিক নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করে থাকে। এটি Hub বা Switch এর মতোই। তবে পার্থক্য হচ্ছে, Hub বা Switch যেখানে একাধিক ডিভাইসকে সংযুক্ত করে, সেখানে Bridge একাধিক নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করে একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক তৈরি করে। Bridge তিন ধরনের হয়ে থাকে –

  • Local Bridge : সরাসরি LAN এর সাথে যুক্ত থাকে।
  • Remote Bridge : দুটি LAN এর মধ্যে Wide Area Network তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। 
  • Wireless Bridge : একাধিক LAN যুক্ত করা বা LAN এর দূরবর্তী কোনো স্টেশন সংযুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। 

রিপিটার (Repeater) :

নেটওয়ার্কে ক্যাবলের মধ্যে দিয়ে সংকেত পাঠানো হলে সংকেতটি একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব যাওয়ার পর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সে সংকেত থেকে তথ্য উদ্ধার অসম্ভব হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে Repeater মূলত এ দুর্বল সংকেতকে পুনরায় শক্তিশালী করে তোলে অর্থাৎ সংকেতকে ইলেকট্রিক্যালি এমপ্লিফাই করে পুনরায় তা নেটওয়ার্কে প্রেরণ করে। বিশেষত অধিক দূরত্বে সিগন্যাল প্রেরণে Repeater ব্যবহার করা হয়।

নেটওয়ার্ক টপোলজি ও ক্লাউড কম্পিউটিং (Network Topology & Cloud Computing)

নেটওয়ার্ক টপোলজি কি? (What is Network Topology?)

কোনো নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত কম্পিউটার সমূহ একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকার কৌশলকেই নেটওয়ার্ক টপোলজি (Network Topology) বলা হয়।

নেটওয়ার্ক টপোলজি কত প্রকার? (Types of Network Toplogy)

কম্পিউটার নেটওয়ার্কে সাধারণত নিম্নোক্ত ছয় ধরনের নেটওয়ার্ক টপোলজি ব্যবহার করা যায় –

  • স্টার টপোলজি বা নেটওয়ার্ক
  • রিং টপোলজি বা নেটওয়ার্ক
  • বাস টপোলজি বা নেটওয়ার্ক
  • মেশ টপোলজি বা নেটওয়ার্ক
  • ট্রি টপোলজি বা নেটওয়ার্ক
  • Hybrid Network

নেটওয়ার্ক টপোলজি কি

                                                          Types of Network Topology

স্টার টপোলজি বা নেটওয়ার্ক (Star Toplogy Network):

এই ধরনেরনেটওয়ার্ক টপোলজিতে কোনো নেটওয়ার্কের আওতাধীন কম্পিউটার সমূহ কেন্দ্রীয়ভাবে একটি Hub বা Switch এর মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে। এক্ষেত্রে কোনো কম্পিউটার ডেটা ট্রান্সফার করতে চাইলে সেটি প্রথমে Hub বা Switch এ পাঠানো হয়। এরপর Hub বা Switch সে ডেটা প্রাপক ডিভাইসে প্রেরণ করে।

সুবিধা ও অসুবিধাসমূহঃ

সুবিধাসমূহঅসুবিধাসমূহ
কোনো একটি কম্পিউটার নষ্ট হলেও নেটওয়ার্কের বাকি কম্পিউটারগুলোর কাজ প্রভাবিত হয় না।একই নেটওয়ার্কে বিভিন্ন ধরনের ক্যাবল ব্যবহার করা যায়।যেকোন সময় কোনো কম্পিউটার যোগ করা বা বাদ দেওয়া যায়, এতে নেটওয়ার্ক প্রভাবিত হয় না।কেন্দ্রীয়ভাবে নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ বা সমস্যা নিরূপণ করা সহজ।Hub বা Switch এর সংখ্যা বাড়িয়ে নেটওয়ার্কে অধিক সংখ্যক কম্পিউটার যুক্ত করা যেতে পারে।কেন্দ্রীয় Hub বা Switch নষ্ট হয়ে গেলে সমস্ত নেটওয়ার্কটি অচল হয়ে পড়ে।প্রচুর পরিমাণে ক্যাবল ব্যবহৃত হওয়ায় এটি একটি ব্যয়বহুল পদ্ধতি। 

রিং টপোলজি বা নেটওয়ার্ক (Ring Topology Network) :

এই ধরনের নেটওয়ার্ক টপোলজিতে নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি কম্পিউটার বৃত্তাকারভাবে পরস্পর সংযুক্ত থাকে। অর্থাৎ প্রতিটি কম্পিউটার ক্যাবলের সাহায্যে তার পার্শ্ববর্তী দুটি কম্পিউটারের সাথে সরাসরি সংযুক্ত হয়ে একটি লুপ বা রিং এর ন্যায় গঠন তৈরি করে। এই টপোলজিতে সিগন্যালের একমুখী বা একটি নির্দিষ্ট দিকে ট্রান্সমিশন হয়।

সুবিধা ও অসুবিধাসমূহঃ

সুবিধাসমূহঅসুবিধাসমূহ
নেটওয়ার্কে কম্পিউটারের সংখ্যা বাড়লেও এর দক্ষতা খুব বেশি প্রভাবিত হয় না।নেটওয়ার্কে কোনো সার্ভার কম্পিউটারের প্রয়োজন হয় না।ডেটা ট্রান্সমিশনে প্রতিটি কম্পিউটারই সমান অ্যাকসেস পায়, অর্থাৎ কোনো একটি কম্পিউটার আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। যেকোনো একটি মাত্র কম্পিউটার নষ্ট হলেই পুরো নেটওয়ার্কটি অচল হয়ে যায়।কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা নিরুপণ করা বেশ জটিল।নেটওয়ার্কে কোনো কম্পিউটার যোগ বা অপসারণ করলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ব্যহত হয়।

বাস টপোলজি বা নেটওয়ার্ক (Bus Topology Network):

এই ধরনের নেটওয়ার্ক টপোলজিতে একটি সংযোগ লাইনেই নেটওয়ার্কের আওতাধীন সকল কম্পিউটার যুক্ত থাকে। এক্ষেত্রে সংযোগ লাইনটিকে সাধারণত Bus বলা হয়। Bus নেটওয়ার্কে একটি কম্পিউটার কোনো ডেটা প্রেরণ করলে সেটি সংযোগ লাইনের মধ্য দিয়ে সকল কম্পিউটারেই পৌছে। তবে যে কম্পিউটারের উদ্দেশ্যে ডেটা পাঠানো হয়, কেবলমাত্র সেটিই সে ডেটা গ্রহণ করে থাকে। 

সুবিধা ও অসুবিধাসমূহঃ

সুবিধাসমূহঅসুবিধাসমূহ
কোনো কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলে সহজেই তা নেটওয়ার্ক হতে বিচ্ছিন্ন করা যায়। এতে অন্য কম্পিউটারের কার্যক্রম ব্যহত হয় না।সহজেই কোনো কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করা যায়।কম তারের প্রয়োজন হয়, ফলে খরচ কম।নেটওয়ার্কের Bus সহজে সম্প্রসারণ করা যায়। দুটো পৃথক ক্যাবলকে একটি BNC Barrel Connector দিয়ে জোড়া লাগিয়ে একটি লম্বা ক্যাবল রূপ দেওয়া যায় এবং এতে আরও অধিক সংখ্যক কম্পিউটারকে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়।Bus সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনে রিপিটার ব্যবহার করা যায়। একই সময়ে কেবল একটিমাত্র কম্পিউটার ডেটা পাঠাতে পারে।মূল ক্যাবল বা সংযোগ লাইনটি নষ্ট হয়ে গেলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কটি অচল হয়ে যায়।কম্পিউটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ডেটা ট্রান্সমিশন বিঘ্নিত হয়।ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য কোন সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকে না। যে কোনো কম্পিউটার যে কোনো সময়ে ডেটা ট্রান্সমিশন করার কারণে প্রচুর ব্যান্ডউইথ নষ্ট হয়। বাস টপোলজিতে সৃষ্ট সমস্যা নির্ণয় তুলনামূলক বেশ জটিল।

মেশ টপোলজি বা নেটওয়ার্ক (Mesh Topology Network):

এই ধরনের নেটওয়ার্ক টপোলজিতে নেটওয়ার্কের আওতাধীন প্রতিটি কম্পিউটারই একে অপরের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। 

সুবিধা :

  • কোনো একটি সংযোগ লাইন নষ্ট হয়ে গেলেও বিকল্প সংযোগ লাইন ব্যবহার করে ডেটা ট্রান্সমিশন অব্যাহত থাকে।
  • একটি কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলেও বাকি নেটওয়ার্কে তেমন অসুবিধা হয় না।
  • যেকোনো দুটি নোডের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ডেটা আদান-প্রদান করা যায়।
  • ডেটা কমিউনিকেশনে নিশ্চয়তা অনেক বেশি থাকে।
  • নেটওয়ার্কের যেকোনো সমস্যা খুব সহজে সমাধান করা যায়।
  • অবকাঠামো অনেক শক্তিশালী।

অসুবিধা :

  • নেটওয়ার্ক ইনস্টলেশন ও কনফিগারেশন বেশ জটিল।
  • সংযোগ লাইনগুলোর দৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় খরচ বেশি হয়। 

ট্রি টপোলজি বা নেটওয়ার্ক (Tree Topology Network) :

এই ধরনের নেটওয়ার্ক টপোলজি Hierarchical Topology হিসেবেও পরিচিত। Tree Topology তে নেটওয়ার্কের আওতাধীন প্রতিটি কম্পিউটার পরস্পরের সাথে গাছের শাখা-প্রশাখার ন্যায় বা বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত থাকে, বিধায় একে Tree Topology বলা হয়। একাধিক হাব ব্যবহার করে সমস্ত কম্পিউটারগুলোকে একটি বিশেষ স্থানে সংযুক্ত করা হয় যাকে Root বলা হয়। ট্রি সংগঠনে এক বা একাধিক স্তরের কম্পিউটার হোস্ট কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে।

সুবিধা :

  • নতুন শাখা-প্রশাখা সৃষ্টির মাধ্যমে সহজেই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা যায়। 
  • নতুন কোনো নোড সংযুক্ত করলে অথবা অপসারণ করলে নেটওয়ার্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো অসুবিধা হয় না।
  • অফিস ব্যবস্থাপনার কাজে এই ধরনের টপোলজি বেশি উপযোগী।

অসুবিধা :

  • তুলনামূলকভাবে কিছুটা জটিল ধরনের।
  • Root বা সার্ভার কম্পিউটারে কোনো সমস্যা হলে নেটওয়ার্কটি অচল হয়ে যায়।

Hybrid Network :

ভিন্ন ধরণের একাধিক নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে যে নতুন নেটওয়ার্ক গঠিত হয় তাকে Hybrid Network বলা হয়। ইন্টারনেটকে হাইব্রিড নেটওয়ার্ক হিসেবে অভিহিত করা যায়। কেননা এতে প্রায় সব ধরনের টপোলজি নেটওয়ার্কই সংযুক্ত আছে। হাইব্রিড নেটওয়ার্কের সুবিধা ও অসুবিধা নির্ভর করে ঐ নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা টপোলজির উপর।

সুবিধা :

  • প্রয়োজন অনুযায়ী নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে।
  • কোনো সমস্যা সহজেই নির্ণয় করা যায়। 
  • নেটওয়ার্কের কোনো একটি অংশ নষ্ট হয়ে গেলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হয় না।

অসুবিধা :

  • নেটওয়ার্কের নকশা বা ডিজাইন করা একটু জটিল।
  • প্রচুর ক্যাবল ও নেটওয়ার্কিং ডিভাইস প্রয়োজন হওয়ায় খরচ বেশি। 

ক্লাউড কম্পিউটিং কী? (What is Cloud Computing?)

বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার রিসোর্স যেমন নেটওয়ার্ক, সার্ভার, স্টোরেজ, সফটওয়্যার প্রভৃতি সার্ভিস সহজে, ক্রেতার সুবিধা অনুসারে, চাহিবামাত্র এবং ব্যবহার অনুযায়ী ভাড়া দেয়ার সিস্টেমকেই বলা হয় ক্লাউড কম্পিউটিং। ক্লাউড কম্পিউটিং এর প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো –

  1. Resource Scalability : ক্রেতার ছোট বা বড় যেকোনো চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। অর্থাৎ ক্রেতা ঠিক যতটুকু সার্ভিস চাইবে, সার্ভিসদাতা সেই পরিমাণ সার্ভিস দিতে পারবে।
  2. On Demand : On Demand মানে যখন চাইবে তখন দেওয়া। অর্থাৎ ক্রেতা যখন চাইবে, তখনই সেবা দিতে হবে। ক্রেতা তার ইচ্ছা অনুযায়ী চাহিদা বাড়াতে বা কমাতে পারবে।
  3. Pay as you Go : এর মানে হচ্ছে ক্রেতাকে আগে থেকে কোন সার্ভিস চার্জ দেওয়া লাগবে না। ক্রেতা যতটুকু রিসোর্স যত সময়ের জন্য ব্যবহার করবে কেবলমাত্র তার জন্যই পেমেন্ট দিতে হবে।

Cloud Computing কে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায় – 

  1. Private Cloud : যখন বড় কোনো সংস্থা নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরিষেবা মেটানোর জন্য ক্লাউড সিস্টেম তৈরি করে তখন তাকে Private Cloud বলে। এই ধরনের ক্লাউড সিস্টেম সাধারনত অভ্যন্তরীণভাবে একটি সংস্থায় নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা হয়। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সুরক্ষিত থাকে। তবে একটু বেশি ব্যয়বহুল পদ্ধতি। তাছাড়া নিজস্ব ডেটা সেন্টার বসাতে হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হয়। 
  2. Public Cloud : এই ধরনের ক্লাউড সিস্টেমে বিভিন্ন সার্ভিস সমূহ সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে। অর্থাৎ এই ক্লাউডের সার্ভিসগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। যেমন পাবলিক ক্লাউডের উদাহরণ হচ্ছে Microsoft, Amazon, Google ইত্যাদি। এদের নিজস্ব ডেটা সেন্টার আছে যেখানে ডেটা জমা থাকে এবং প্রয়োজনে প্রসেস করা যায়।
  3. Hybrid Cloud : হাইব্রিড ক্লাউড বলতে দুই বা ততোধিক ক্লাউডের সংমিশ্রণকে বোঝায়। এক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক ক্লাউডের সমন্বয়ের ফলে মূলত এর ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়।

Cloud Computing এর সার্ভিস মডেলকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় – 

  • অবকাঠামোগত সেবা (Infrastructure as a Service-IaaS)
  • প্লাটফর্মভিত্তিক সেবা (Platform as a Service-PaaS)
  • সফটওয়্যার সেবা (Software as a Service-SaaS)

Cloud Computing এর সুবিধা :

  • ছোট ও প্রাথমিক উদ্যোক্তারা সহজেই ব্যবসা করার সুযোগ পায়।
  • সবসময় ব্যবহার করা যায়।
  • যেকোনো স্থান থেকে সুবিধা ভোগ করা যায়।
  • কম সংখ্যক জনবল লাগে।
  • নিজস্ব কোনো হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন হয় না। 
  • স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যার আপডেট হয় এবং সহজেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং লাইসেন্স ফি এর জন্য অধিক অর্থ ব্যয় করতে হয় না।
  • অপারেটিং খরচ তুলনামুলক কম।

অসুবিধা :

  • ক্লাউডে আপলোড করা তথ্য কোথায় জমা হলো জানা যায় না।
  • ক্লাউডে তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা কম (যেহেতু তথ্য সার্ভিসদাতার কাছে চলে যাচ্ছে)।
  • তথ্যের উপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
  • ক্লাউডে ব্যবহৃত প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যারের উপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
  • ক্লাউড সাইটে সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহারকারীরা তার সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হন।

তারযুক্ত ডেটা কমিউনিকেশন পদ্ধতি | Communication Media: Wired

এক ডিভাইস হতে অন্য ডিভাইসে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য প্রেরক ও প্রাপক উভয়ের মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপন করা প্রয়োজন। এই সংযোগকে Channel বা মাধ্যম বলে। এক্ষেত্রে প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে যদি Cable বা তারের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করা হয়, তাহলে এই ধরণের মাধ্যমকে Wired Media বলে। 

ডেটা কমিউনিকেশনে তারযুক্ত মাধ্যমকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় – 

  1. Co-axial Cable
  2. Twisted Pair Cable
  3. Fiber optic Cable

Co-axial Cable :

দুটি বিদ্যুৎ পরিবাহী তার ও অপরিবাহী পদার্থের সাহায্যে এই Cable তৈরি করা হয়। ভেতরের পরিবাহী তারটি মূলত কপার Wire যার মধ্য দিয়ে ডেটা প্রবাহিত হয়। ভেতরের পরিবাহী ও বাইরের পরিবাহী তারকে পৃথক রাখার জন্য এদের মাঝখানে অন্তরক পদার্থ হিসেবে ফোমের ইন্সুলেশন ব্যবহার করা হয়। বাইরের পরিবাহী তারকে একটি প্লাস্টিকের জ্যাকেট দ্বারা আবৃত করা হয়। 

সুবিধা : 

  • Transmission Loss অপেক্ষাকৃত কম।
  • দ্রুত গতিতে ডেটা পাঠানো যায়।
  • Analog ও Digital উভয় ধরণের ট্রান্সমিশনে এই ক্যাবল ব্যবহৃত হয়।
  • Twisted Pair Cable অপেক্ষা অধিক দূরত্বে ডেটা পাঠানো যায়।
  • Fiber Cable অপেক্ষা কম ব্যয়বহুল এবং সহজে বহনযোগ্য।

অসুবিধা :

  • ডেটা ট্রান্সফার রেট তারের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে।
  • Twisted Pair Cable অপেক্ষা কিছুটা ব্যয়বহুল।

ব্যবহার :

টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, ডিশ টিভি বা ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ইত্যাদি।

Co-axial Cable দুই ধরণের – 

  1. Thin net : এ ধরণের ক্যাবল তুলনামূলকভাবে পাতলা হয়। ক্যাবলের ব্যাস ০.২৫ ইঞ্চি। এক্ষেত্রে রিপিটার ছাড়া ট্রান্সমিশন ডিসটেন্স প্রায় ১৮৫ মিটার। এতে BNC কানেক্টর ব্যবহৃত হয়।
  2. Thick net : এ ধরণের ক্যাবল তুলনামূলকভাবে মোটা হয়। ক্যাবলের ব্যাস ০.৫ ইঞ্চি এবং রিপিটার ছাড়া ট্রান্সমিশন ডিসটেন্স প্রায় ৫০০ মিটার। 

Twisted Pair Cable :

Twisted মানে হলো প্যাঁচানো। দুটি পরিবাহী তামার তারকে সুষমভাবে পেঁচিয়ে Twisted Pair Cable তৈরি করা হয়। প্যাঁচানো তার দুটি পৃথক রাখার জন্য এদের মাঝে অপরিবাহী পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে সাধারণত ৪ জোড়া তার ব্যবহার করা হয়। প্রতি জোড়া তারে কমন রঙ হিসেবে সাদা রঙের তার ব্যবহার করা হয়। 

সুবিধা :

  • দামে সস্তা।
  • সহজে স্থাপন করা যায়।
  • Analog ও Digital উভয় ধরণের ট্রান্সমিশনে এই ক্যাবল ব্যবহৃত হয়।
  • কম দূরত্বে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

অসুবিধা :

  • Transmission Loss অপেক্ষাকৃত বেশি।
  • গঠন পাতলা হওয়ায় সহজেই ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • সিগন্যাল সহজেই নয়েজ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় বেশি দূরত্বে ডেটা প্রেরণে ভুলের মাত্রা বেড়ে যায়।
  • ১০০ মিটারের অধিক দূরত্বে কোনো ডেটা পাঠানো অনেক কষ্টকর।

Twisted Pair Cable দুই ধরণের – 

  1. Unshielded Twisted Pair Cable (UTP) : এই ধরণের ক্যাবলের বাইরে অতিরিক্ত কোনো আবরণ থাকে না। UTP ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ সাধারণত 10 Mbps হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ট্রান্সমিশন ডিসটেন্স ১০০ মিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এতে Electromagnetic Interference প্রভাব খুব বেশি। বিভিন্ন ধরণের UTP ক্যাবলের মধ্যে CAT-5 ও CAT-6 বেশি জনপ্রিয়। 
  2. Shielded Twisted Pair Cable (STP) : Shield মানে হলো ঢাল। STP তে এক বা একাধিক টুইস্টেড ক্যাবল থাকে যা ফয়েল ও প্রটেকটিভ কপার শিল্ডিং দ্বারা আবৃত। STP ক্যাবলের ব্যান্ডউইথ সাধারণত 16 Mbps হয়ে থাকে, তবে প্রায় ৫০০ Mbps পর্যন্ত হতে পারে। এক্ষেত্রেও ট্রান্সমিশন ডিসটেন্স ১০০ মিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। STP তে Electromagnetic Interference প্রভাব হ্রাস পায়। 

Fiber Optic Cable :

Optical Fiber হচ্ছে কাঁচ অথবা প্লাস্টিকের তৈরি এক ধরণের ক্যাবল যা আলো পরিবহনে সক্ষম। এই ধরণের ক্যাবলে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে অতি দ্রুত ডেটা প্রেরণ করা যায়। এক্ষেত্রে ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে বিশেষ ধরণের সার্কিটের মাধ্যমে আলোক তরঙ্গে রূপান্তর করে তারপর তা ট্রান্সমিট করা হয়। এরপর এই আলোক তরঙ্গ Optical Fiber এর মাধ্যমে গন্তব্যস্থানে পৌঁছালে আলোক তরঙ্গকে পুনরায় বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তর করা হয়। 

গঠন :

ফাইবার তৈরিতে অন্তরক পদার্থ হিসেবে সিলিকা ও মাল্টি কম্পোনেন্ট কাঁচ বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়। ফাইবার তৈরির উপাদান হিসেবে সোডিয়াম বোরো সিলিকেট, সোডা লাইম সিলিকেট, সোডা অ্যালুমিনা সিলিকেট প্রভৃতি মাল্টি কম্পোনেন্ট কাঁচগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ফাইবারের ক্ল্যাডিং হিসেবে কখনো প্লাস্টিকও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অপটিকাল ফাইবারের তিনটি অংশ রয়েছে – 

  1. Core 
  2. Cladding
  3. Jacket

বৈশিষ্ট্য :

  •  উচ্চগতিতে ডেটা ট্রান্সমিট করা যায়।
  • বৈদ্যুতিক সিগন্যালের পরিবর্তে আলোক সিগন্যাল আকারে ডেটা ট্রান্সমিট হয়।
  • কাঁচের তন্তু হওয়ায় অত্যন্ত স্বচ্ছ হয়।
  • ক্যাবলে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন পদ্ধতিতে ডেটা প্রবাহিত হয়। 
  • শক্তির অপচয় হয় না। 

সুবিধা :

  • আয়তনে ছোট, ওজনে হালকা ও সহজে পরিবহনযোগ্য।
  • উচ্চ ব্যান্ডউইথ সম্পন্ন।
  • Electromagnetic Interference প্রভাব থেকে মুক্ত।
  • ডেটা আদান-প্রদানে নির্ভুল।
  • পরিবেশের তাপ, চাপ বা অন্য কোনো পারিপার্শ্বিক অবস্থা দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
  • শক্তির অপচয় কম।
  • ডেটা সংরক্ষণের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সবচেয়ে বেশি।
  • সহজে প্রক্রিয়াকরণ করা যায়। 

অসুবিধা :

  • অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
  • এটিকে U আকারে বাঁকানো যায় না।
  • ইনস্টলেশন তুলনামূলকভাবে জটিল।

রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন জনবলের প্রয়োজন।  

One thought on “HSC ICT: Chapter 2 – Communication Systems and Networking

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top